ইনসাইডার কাউনিয়া ডেস্ক:
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ ইউনিয়নের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইউনিয়ন কাজী মাওলানা আজহারুল ইসলাম বাবুল ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে কাউনিয়াসহ আশপাশের এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ধুমেনকুঠি ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি হারাগাছ ইউনিয়নের কাজী হিসেবেও অত্যন্ত সুনাম ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
শিক্ষাঙ্গনে একজন নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব
মাওলানা আজহারুল ইসলাম বাবুল ছিলেন এলাকার শিক্ষাঙ্গনের অত্যন্ত পরিচিত এবং সম্মানিত একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে কাজ করেছেন।
সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন স্নেহশীল শিক্ষক, দক্ষ সংগঠক এবং আদর্শিক পথপ্রদর্শক। তার নেতৃত্বে ধুমেনকুঠি ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সুশৃঙ্খল হয়ে উঠেছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, তিনি শুধু একজন শিক্ষকই ছিলেন না, বরং একজন অভিভাবকের মতো শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেন এবং তাদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে সবসময় আন্তরিক ছিলেন।
সমাজসেবায়ও ছিল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা
শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন মাওলানা আজহারুল ইসলাম বাবুল।
হারাগাছ ইউনিয়নের কাজী হিসেবে তিনি বহু বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার সততা, আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ স্থানীয়দের মাঝে তাকে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।
স্থানীয়রা জানান, যেকোনো সামাজিক সমস্যা, পারিবারিক বিরোধ বা ধর্মীয় বিষয়ে তিনি পরামর্শ ও সহযোগিতা করতেন। ফলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন গ্রহণযোগ্য এবং শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি।
শোকের ছায়া নেমেছে এলাকায়
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ধুমেনকুঠি ফাজিল মাদ্রাসা এবং হারাগাছ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
তার সহকর্মী, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন এবং তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, মাওলানা আজহারুল ইসলাম বাবুল ছিলেন বিনয়ী, পরোপকারী এবং অত্যন্ত সহজ-সরল একজন মানুষ। তিনি মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন এবং সমাজের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শোক প্রকাশ
তার মৃত্যুতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
শোকবার্তায় মরহুমের দীর্ঘ কর্মময় জীবনের অবদান স্মরণ করে বলা হয়, তার মৃত্যুতে কাউনিয়া উপজেলার শিক্ষা ও ধর্মীয় অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
শোক প্রকাশকারীরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জানাজা ও দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরে
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মরহুমের জানাজার সময় ও দাফনের স্থান সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।
তার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা শেষবারের মতো তাকে দেখতে এবং জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছেন।
একজন আদর্শ শিক্ষকের প্রস্থান
স্থানীয়দের মতে, মাওলানা আজহারুল ইসলাম বাবুলের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো এলাকার জন্যই এক বড় ক্ষতি। শিক্ষা, ধর্মীয় কর্মকাণ্ড এবং সামাজিক সেবায় তার অবদান দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবে।
তিনি তার কর্ম, সততা এবং মানবিক গুণাবলির মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে যে স্থান করে নিয়েছেন, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
সব মিলিয়ে, ধুমেনকুঠি ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও হারাগাছ ইউনিয়নের কাজী মাওলানা আজহারুল ইসলাম বাবুলের মৃত্যুতে কাউনিয়াসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার কর্মময় জীবনের স্মৃতি ও অবদান দীর্ঘদিন মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।
আল্লাহ তাআলা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
