ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন আজ

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

ইনসাইডার কাউনিয়া ডেস্ক:

আজ ২৮ জুন, বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ, সমাজচিন্তক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এই দিনে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের নানা অর্জন ও অবদানের মধ্য দিয়ে এ বছর তিনি ৮৬ বছরে পদার্পণ করেছেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধু একজন অর্থনীতিবিদ নন, বরং তিনি সামাজিক ব্যবসা ও ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থার বিশ্বস্বীকৃত একজন পথিকৃৎ। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাবলম্বিতা অর্জনের জন্য তার উদ্ভাবিত ক্ষুদ্রঋণ ধারণা বিশ্বজুড়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ড. ইউনূসের শিক্ষাজীবন শুরু হয় চট্টগ্রামে। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭০-এর দশকে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে, সামান্য পুঁজি না থাকার কারণে অনেক মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারছেন না। সেই উপলব্ধি থেকেই ক্ষুদ্রঋণের ধারণার জন্ম, যা পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, নারীর উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি তিনি সামাজিক ব্যবসার ধারণা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় করে তুলেছেন। তার মতে, ব্যবসার মূল লক্ষ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন সমস্যার টেকসই সমাধান করাও হতে পারে। তার এই দর্শন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন ধরনের সামাজিক উদ্যোগের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন খাতে সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বহু সম্মানসূচক ডিগ্রি ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতা, অর্থনীতিবিদ এবং সামাজিক সংগঠন তার কাজের প্রশংসা করেছেন।

ড. ইউনূসের জন্মদিন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার কর্মজীবন, অবদান এবং দর্শন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও তার জন্মদিনকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্রঋণ, সামাজিক ব্যবসা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে তার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও স্মারক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

দীর্ঘ কর্মময় জীবনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজেকে শুধু একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং বিশ্বজুড়ে সামাজিক পরিবর্তনের একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার জন্মদিনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল তার সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *