জুলাইয়ের সম্মানে বাড়ানো হচ্ছে না তেলের দাম

ইনসাইডার কাউনিয়া | জাতীয় ডেস্ক

জুলাই মাসজুড়ে দেশের সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি (অটোমেটেড প্রাইসিং ফর্মুলা) অনুযায়ী ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের বিদ্যমান মূল্যই বহাল থাকবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের দামে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। ফলে ভোক্তারা গত মাসের নির্ধারিত দামেই ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেন কিনতে পারবেন। এতে পরিবহন খাত, কৃষি খাত এবং সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসের জন্য মূল্য পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে জুন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু জ্বালানি পণ্যের দামে সমন্বয় আনা হয়েছিল। সে সময় পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দামে পরিবর্তন এলেও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। তবে জুলাই মাসে সব ধরনের জ্বালানি তেলের বর্তমান মূল্য বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে বাজার স্থিতিশীল রাখার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানার পরিচালন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। অন্যদিকে দাম অপরিবর্তিত থাকলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেলে পরিবহন খরচ বাড়ে, যার প্রভাব পর্যায়ক্রমে খাদ্যপণ্যসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের বাজারে পড়ে। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকায় আপাতত ভাড়া বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিকতা তৈরি হয়নি। বিশেষ করে গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন খাতে এটি একটি স্বস্তির বিষয়। কৃষকরাও মনে করছেন, সেচ ও কৃষি যন্ত্রপাতিতে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম না বাড়ায় তাদের উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালুর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা। এতে দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকির চাপ কমানো এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের ওঠানামা হলে দেশীয় বাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবার কেউ কেউ আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার প্রতি মাসেই আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী মাসে নতুন করে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, জ্বালানি তেলের বর্তমান দাম স্থায়ী নয়; বরং বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যতে বাড়ানো বা কমানো—দুই ধরনের সিদ্ধান্তই আসতে পারে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানোর বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের বাস্তবতাও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তাই ভবিষ্যতেও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নীতিমালার আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, জুলাই মাসে দেশের সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। এখন নজর থাকবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের গতিপ্রকৃতির দিকে, কারণ আগামী মাসগুলোর মূল্য নির্ধারণ অনেকটাই নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *