দুই বেসরকারি কলেজের নতুন নাম শহীদ জিয়াউর রহমানের নামে, অনুমোদন দিল সরকার

ইনসাইডার কাউনিয়া ডেস্ক:

দেশের দুটি বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে নতুন নামকরণের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আরও তিনটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনেরও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি কলেজ-৬ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের আবেদনের ভিত্তিতে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বিধি-বিধান অনুসরণ করে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা ও ফেনী জেলার দুটি বেসরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে নতুন নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রজ্ঞাপনে নির্দিষ্ট কলেজগুলোর পূর্বের নাম এবং পরিবর্তিত নামের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। প্রথমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা গভর্নিং বডি নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব অনুমোদন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। এরপর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নথিপত্র, প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, স্থানীয় চাহিদা এবং বিধিমালা যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো নতুন নামেই তাদের প্রশাসনিক, একাডেমিক এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কলেজগুলোর সনদ, অফিসিয়াল নথিপত্র, সাইনবোর্ড এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নথিতেও নতুন নাম ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের আবেদন দীর্ঘদিন ধরেই জমা পড়ে আছে। এসব আবেদন পর্যায়ক্রমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়ক, স্থাপনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ইতিহাস ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিদের নামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ নতুন কোনো বিষয় নয়। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রনায়ক, শিক্ষাবিদ এবং সমাজসেবীদের নামে বহু প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত বা পুনঃনামকরণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামেও দুটি কলেজের নতুন নামকরণ করা হলো।

এদিকে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, দেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা সম্মানের বিষয়। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত জনমত ও স্থানীয় ঐতিহ্যের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষাবিদদের একটি অংশ বলছেন, নাম পরিবর্তনের চেয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রধান অগ্রাধিকার। তবে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, ঐতিহাসিক গুরুত্ব বা নতুন ব্র্যান্ডিংও তৈরি হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি কলেজের পাশাপাশি দেশের আরও তিনটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন নাম নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনার নাম পরিবর্তন নিয়ে একাধিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দুটি বেসরকারি কলেজের নাম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে পরিবর্তনের অনুমোদন দেওয়া হলো। এখন নতুন নামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করবে এবং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *