এক দিনের ব্যবধানে আবারও কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা

ইনসাইডার কাউনিয়া | বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের স্বর্ণের বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে জনপ্রিয় ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ১৪২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৩২ টাকা।

এর আগে সোমবার (২৯ জুন) বাজুস প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা দাম কমিয়েছিল। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম মোট ৬ হাজার ৫৯০ টাকা কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য মূল্যহ্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ার কারণে নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, ডলারের বিনিময় হার এবং স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই সাধারণত স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে দেশীয় বাজারেও খাঁটি স্বর্ণের দাম নিম্নমুখী হওয়ায় বাজুসকে নতুন মূল্য ঘোষণা করতে হয়েছে। তাদের মতে, টানা দুই দিনের মূল্যহ্রাসে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে।

তবে স্বর্ণের দাম কমলেও গয়না কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে। কারণ বাজুস নির্ধারিত স্বর্ণের দামের সঙ্গে গয়নার মজুরি, সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং ডিজাইন ও কারুকাজভেদে অতিরিক্ত চার্জ যোগ করা হয়। ফলে দোকানভেদে একই ওজনের গয়নার দামেও পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিয়ে, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান এবং উৎসবকে কেন্দ্র করে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। দাম কমে যাওয়ায় অনেকেই নতুন করে স্বর্ণ কেনার পরিকল্পনা করতে পারেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে দাম কমার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর।

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ শুধু অলংকার হিসেবেই নয়, বরং বিনিয়োগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি কিংবা বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় অনেক বিনিয়োগকারী স্বর্ণে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে।

জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, মূল্য কমায় বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং বিক্রির পরিমাণ বাড়তে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবার দাম বাড়তে শুরু করলে দেশীয় বাজারেও স্বর্ণের মূল্য পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে।

এদিকে, স্বর্ণের দাম কমার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে স্বর্ণ ক্রয়ের উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই মনে করছেন, সামনে দাম আরও কমতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণ কেনার আগে ক্রেতাদের অবশ্যই বাজারদর যাচাই করে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি গয়না কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত মজুরি, ভ্যাট এবং অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

সব মিলিয়ে, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেশের স্বর্ণের বাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী দিনগুলোতে স্বর্ণের দাম আরও কমে নাকি আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *