‘শোক অনুষ্ঠানে’ যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন

ইনসাইডার কাউনিয়া ডেস্ক:

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন একটি রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে আগামী ৩ জুলাই ইরান সফরে যাচ্ছেন। সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ শোকানুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, সংসদীয় নেতৃবৃন্দ এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই আমন্ত্রণের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যুর পর দেশটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে রাজধানী তেহরানে একটি বিশেষ শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণকে কেবল একটি শোকানুষ্ঠানে উপস্থিতি নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতি সম্মান ও সৌহার্দ্যের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

স্পিকারের সফরকে সংসদীয় কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সফরকালে তিনি ইরানের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান, শোকসভা, সম্মেলন কিংবা রাষ্ট্রীয় আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় এবং নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্রও তৈরি হয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিনের ইরান সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে দেশটির প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ইরানের অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ফলে দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, শোকানুষ্ঠানের পাশাপাশি স্পিকার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেন। সফরের সময় তিনি বাংলাদেশ ও ইরানের বিদ্যমান সম্পর্ক, বাণিজ্য সহযোগিতা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়সহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে স্পিকারের ইরান সফরের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ সফরটিকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এ সফরের তাৎপর্য নিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন।

তবে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, এটি একটি সম্পূর্ণ আনুষ্ঠানিক সফর এবং নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণই এ সফরের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং ইরানের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাবে।

পররাষ্ট্র বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সফর দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য এবং কূটনৈতিক যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করে। বিশেষ করে কঠিন সময়ে এক দেশের পাশে আরেক দেশের প্রতিনিধিত্বমূলক উপস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও দুই দেশ একাধিক বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা করে থাকে। ফলে স্পিকারের এই সফরকে সেই সম্পর্কের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র জানায়, নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন দেশে ফিরে আসবেন। সফর শেষে তিনি প্রয়োজন হলে এ সফরের বিভিন্ন দিক এবং অর্জন নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারেন বলেও জানা গেছে।

সব মিলিয়ে, ইরানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশের সংসদীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *