ইনসাইডার কাউনিয়া ডেস্ক:
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটি হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরের দিকে ব্যবহারকারীরা পেজটি আর খুঁজে না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে একাধিক রিপোর্ট পাওয়ার পর ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা পেজটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।
বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিলুপ্ত কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন। বুধবার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার পোস্টের কিছু সময় পর থেকেই ব্যবহারকারীরা সার্চ করেও পেজটি আর খুঁজে পাননি।
পেজটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার ঘটনায় সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন এবং পেজটি পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
শাহাদাত হোসেন তার পোস্টে অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত ওই পেজটিকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছে। তার দাবি, পলাতক আওয়ামী লীগ সমর্থক কিছু ব্যক্তি এবং সমন্বিত বট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে গণহারে রিপোর্ট করে পেজটি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর আগের রাতেও জুলাই অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, ধারাবাহিকভাবে এসব ঘটনার পেছনে একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা থাকতে পারে।
তবে শাহাদাত হোসেনের এই অভিযোগের বিষয়ে মেটা কিংবা অন্য কোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার উত্থাপিত অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফেসবুক বা মেটা সাধারণত কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়। কোনো পেজ বা কনটেন্টের বিরুদ্ধে একাধিক কপিরাইট অভিযোগ জমা হলে তা সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া, সীমিত করা বা স্থায়ীভাবে অপসারণ করার ক্ষমতা প্ল্যাটফর্মটির রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই ভুলবশত বা সমন্বিতভাবে রিপোর্ট করার কারণেও কোনো পেজ সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপিলের মাধ্যমে পেজ পুনরুদ্ধারের সুযোগ পায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষকদের আরেকটি অংশের মতে, বর্তমানে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং বিভিন্ন আন্দোলনভিত্তিক প্ল্যাটফর্মগুলো অনলাইনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে এসব প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে সাইবার আক্রমণ, গণহারে রিপোর্ট এবং ভুয়া অভিযোগের ঘটনাও বেড়েছে। তাই কোনো পেজ অপসারণের পেছনে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে মন্তব্য করা প্রয়োজন।
এদিকে পেজটি সরিয়ে দেওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, যদি সত্যিই কপিরাইট নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়ে থাকে, তাহলে মেটার নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকরা পেজটি দ্রুত পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, পেজটি শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম নয়; বরং বিভিন্ন আন্দোলন, কর্মসূচি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
তবে পেজটি স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়েছে নাকি সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। মেটার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেজ অপসারণের প্রকৃত কারণ, কপিরাইট অভিযোগের উৎস এবং পেজটি পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা সম্পর্কে পরিষ্কার তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি অনেকটাই দূর হবে। আপাতত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবহারকারীরা।
