ইনসাইডার কাউনিয়া প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যাণী ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে বাড়িতে একা থাকা এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা দিনের বেলায় কর্মস্থলে থাকার সুযোগে প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ। তবে স্কুলছাত্রীর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসায় সম্ভাব্য বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ভবেন্দ্র চন্দ্র রায় পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
ঘটনার দিন দুপুরে ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা সবাই বাড়ির বাইরে কাজে ছিলেন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগে প্রতিবেশী ভবেন্দ্র চন্দ্র রায় কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে একা থাকা ওই ছাত্রীর ওপর জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ।
প্রতিবেশীর তৎপরতা
ভুক্তভোগীর চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা ঘরের ভেতর থেকে আতঙ্কিত অবস্থায় স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে প্রতিবেশীদের দৃঢ় অবস্থান এবং ভুক্তভোগী পরিবারের অনড় সিদ্ধান্তের কারণে সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ভবেন্দ্র চন্দ্র রায় এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
থানা পুলিশ জানিয়েছে, দিনের বেলায় ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে এক স্কুলছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রতিবেশীদের সতর্কতার কারণে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দিনের বেলায় এমন দুঃসাহসিক ঘটনার অভিযোগে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিঃদ্রঃ: এ ঘটনায় উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
